মাগুরায় জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে এসডিএফ এর র্যালী ও আলোচনা সভা


সর্বশেষ
| ফজর | |
| জোহর | |
| আসর | |
| মাগরিব | |
| ইশা | |
| সূর্যোদয় | |
| সূর্যাস্ত |

জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন জিসাস,চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে হাটহাজারী আল জামান হোটেলে উক্ত কর্মী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিসাস, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্মানিত সহ-সভাপতি সৈয়দ নাজিম উদ্দিন এবং সভাপতিত্ব করেন জিসাস, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সম্মানিত সভাপতি মুহাম্মদ মঈন উদ্দীন।উক্ত কর্মী সভায় সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ রফিক।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিসাস,চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সম্মানিত সহ-সভাপতি মোহাম্মদ টিকলো তালুকদার, সহ-সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম,সহ-সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন সোনালী,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুন্নবী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অর্জুন দে,সহ-সাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার মোহাম্মদ কামরুল হুদা, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ শাহাবুদ্দিন,উক্ত কর্মী সভায় হাটহাজারী উপজেলা অসংখ্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিতিতে হাটহাজারী উপজেলার আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।উক্ত আংশিক কমিটিতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো:গাজী আল শাকিব এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আল আমিন নবনির্বাচিত কমিটির উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সম্মানিত সভাপতি মুহাম্মদ মঈন উদ্দীন তিনি বলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে লালন করে তারুণ্যের অহংকার জনাব তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ করার আহব্বান জানিয়েছেন । এবং উক্ত আংশিক কমিটি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ করে জেলাতে প্রেরণ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

পোমরা হিলাগাজী পাড়া হামিদুল্লাহ শাহ্ (রহ:) তরুণ সংঘের মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত
_____________________________________
মোহাম্মদ জসিম, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
পবিত্র ফাতেহায়ে ইয়াজদাহুম উদযাপন উপলক্ষে পোমরা হিলাগাজী পাড়া হামিদুল্লাহ শাহ্ (রহ:) তরুণ সংঘের আয়োজনে এবং এলাকাবাসী ও প্রবাসীদের সহযোগিতায় আজিমুশশান মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) পোমরা হিলাগাজী পাড়া ঈদগাহ্ মাঠে আয়োজিত মাহফিলের উদ্বোধক ছিলেন হিলাগাজী পাড়া হামিদুল্লাহ শাহ (রাঃ) তরুণ সংঘের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ সেলিম শাহ।
হিলাগাজী পাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ নুরুল আমিন তালুকদারের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন, চান্দগাঁও নজিরীয়া নঈমীয়া মাহমুদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক আলহাজ্ব আল্লামা নুর মোহাম্মদ আল কাদেরী।
এতে প্রধান ওয়ায়েজ ছিলেন, চান্দগাঁও নজিরীয়া নঈমীয়া মাহমুদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক আলহাজ্ব আল্লামা খাইরুল আমিন চিশতি।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, গোমরা জামেউল উলুম ফাযিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার সিনিয়র আরবী শিক্ষক আলহাজ্ব মাওলানা মো. আবদুল কাদের, আছুয়া পাড়া ও জমাদার বাড়ী জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ আবুল বশর আল কাদেরী, সরফভাটা ভালুকিয়া তৈয়্যবিয়া সুন্নিয়া এবতেদায়ী মাদরাসার সুপার মাওলানা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীন আশরাফী, হযরত হাঁছি ফকির (রহঃ) সুন্নিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার সিনিয়র আরবী শিক্ষক মাওলানা মুহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম রেজা সহ প্রমুখ।

ডেলিভারির পর সাইটে ক্লায়েন্ট কর্তৃক যেকোনো ধরণের পরিবর্তন, মুছে ফেলা বা অযাচিত সম্পাদনার ফলে যদি সাইটে কোনো সমস্যা বা ত্রুটি সৃষ্টি হয়, সে ক্ষেত্রে আমাদের কোম্পানি সর্বোচ্চ একবারই তা সংশোধন করবে।
আমরা ইতিমধ্যে একই সমস্যার সমাধান দুইবার প্রদান করেছি। ভবিষ্যতে একই ধরণের সমস্যা পুনরায় দেখা দিলে তা আর আমাদের কোম্পানির দায়ভার হিসেবে গণ্য হবে না। প্রয়োজনে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।
এছাড়াও, আমরা যেসব রেডি সাইট বা ছোট প্রজেক্ট সরবরাহ করি, সেগুলোর জন্য পরবর্তীতে এই ধরণের কোনো টেকনিক্যাল সাপোর্ট বা সংশোধনের দায়ভার আমাদের নয়। রেডি সাইট একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুত পণ্য হিসেবে ক্লায়েন্টকে সরবরাহ করা হয়, এবং এ ধরনের প্রজেক্টে পরবর্তীতে কোনো সাপোর্ট প্রদান কোম্পানির নীতিমালার মধ্যে পড়ে না।
এই বিষয়ে আমাদের ডেস্ক প্রতিনিধি ক্লায়েন্টকে কাজ নেওয়ার পূর্বেই পরিষ্কারভাবে অবহিত করেছিলেন এবং সম্মতির ভিত্তিতেই প্রজেক্টটি সম্পন্ন হয়েছে।
এই নিয়মাবলী ক্লায়েন্ট এবং ডেভেলপার উভয়ের স্বার্থেই প্রযোজ্য, যাতে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বুঝাবুঝি ও সমস্যার সৃষ্টি না হয়।
ধন্যবাদান্তে,
সাহাব উদ্দিন আহমেদ
সিনিয়র ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপার
চট্টগ্রাম আইটি সফট

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার সংস্কারকাজ করছেন একটি গ্রামের বাসিন্দারা। গত বুধবার থেকে এই কাজ শুরু হয়েছে।গ্রামের প্রতিটি বাড়ি থেকে মুষ্টির চাল সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় তহবিল গঠন করা হয়েছে।
উপজেলার বিপ্রবেলঘরিয়া ইউনিয়নের ওই গ্রামের নাম কৃষ্ণপুরদীঘা। গ্রামটির ইক্ষু ক্রয়কেন্দ্র থেকে রাস্তাটি শুরু হয়ে মোমিনপুর গ্রামের প্রধান সড়কের সঙ্গে মিলেছে। মোমিনপুর-কৃষ্ণপুরদীঘা রাস্তাটি দিয়ে মোমিনপুর হাট, স্কুল-মাদ্রাসা ও কবরস্থানে যাতায়াত করেন কৃষ্ণপুরদীঘা, আসামপাড়া, মধ্যপাড়া, কবিরাজপাড়া ও মোমিনপুর গ্রামের বাসিন্দারা। কিন্তু সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাও মুশকিল হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংস্কারকাজ শুরুর দুদিন আগেও এ কাঁচা রাস্তাটি যাতায়াতের অনুপযোগী ছিল। চলতি বর্ষায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটি কাদায় ভরে উঠেছিল। কাদায় ঢেকে থাকা খানা-খন্দে প্রায়ই ঘটত দুর্ঘটনা। এমনকি দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু রাস্তাটি সংস্কারে তেমন উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
এলাকার বাসিন্দারা অসুস্থ হলে তাঁকে হাসপাতালে নিতে বেশ ভোগান্তিতে পোহাতে হয়। সম্প্রতি কৃষ্ণপুরদীঘা গ্রামের রুমা বেগম নামের এক গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়েন। খারাপ রাস্তার কারণে দ্রুত তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর বাসিন্দারা আলোচনার মাধ্যমে নিজেরাই রাস্তাটি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য রাস্তা মেরামত তহবিলও গঠন করা হয়। তাঁরা গ্রামটির প্রতিটি বাড়ি থেকে চালের মুষ্টি তুলে তহবিলে জমা করেন। তবে অনেকে নগদ টাকাও জমা করেছেন। যাঁরা টাকা ও চাল দিতে পারেনি, তাঁরা শ্রম দিয়ে রাস্তা মেরামতে অংশ নিয়েছেন।
কৃষ্ণপুরদীঘা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, চার গ্রামের মানুষ মারা গেলে তাঁদের মরদেহ এই রাস্তা দিয়ে কবরস্থানে নেওয়া হয়। হাটবাজারে যাতায়াতের জন্যও রাস্তাটি একমাত্র ভরসা। অথচ প্রশাসন দীর্ঘদিনেও রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি। তাই নিজেরাই সংস্কার কাজে হাত দিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিপ্রবেলঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হালিমা খাতুন বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে যোগাযোগ করেও আমি রাস্তাটি পাকা করতে পারিনি। তাই গ্রামবাসীকে নিয়ে নিজেরাই রাস্তাটি সংস্কারে নেমেছি। আমরা আপাতত ইটভাটার পোড়া মাটি (সুরকি) এনে রাস্তায় ঢেলে রাস্তাটি যাতায়াত উপযোগী করছি।’
আরেক ইউপি সদস্য মারুফ হোসেন বলেন, সংস্কারকাজে গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। যাঁরা সরাসরি শ্রম দিচ্ছেন, তাঁদের জন্য লোকজন খিচুড়ি রান্না করে খাওয়াচ্ছেন।’
গ্রামবাসীর কাজে অভিভূত বলে জানিয়েছেন একই ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান আলী। তিনি জানান, রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামবাসীর যেটুকু কাজ করছেন, তাতে তিনি অভিভূত। রাস্তাটি পাকা করার জন্য তিনি উদ্যোগ নেবেন।
উপজেলা প্রকৌশলী অনুপ কুমার ঘোষ বলেন, তিনি রাস্তাটি সম্পর্কে তেমন কিছু জানতেন না। বিস্তারিত জেনে রাস্তাটি পাকা করার প্রকল্প নেওয়া হবে। তবে গ্রামবাসী যে কাজটি শুরু করেছেন, তা ধন্যবাদ পাওয়ার মতো।

হারিকেন (ঘূর্ণিঝড়) মিল্টন আরও শক্তি সঞ্চয় করেছে। এখন এটি ক্যাটাগরি ফাইভ ঝড়ে পরিণত হয়েছে। শক্তিশালী হওয়ার পর এটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মার্কিন ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি) বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
এনএইচসি বলছে, মিল্টন ফ্লোরিডার দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। এর ঝড়ো বাতাসের গতিবেগ ২৮১ কিলোমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার রাতে বা বৃহস্পতিবার ভোরে এটি উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের পরিচালক কেন গ্রাহাম বলেছেন, মিল্টন রেকর্ড ভাঙা গতিতে ক্যাটাগরি ফাইভ হারিকেনে পরিণত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এর বাতাসের গতিবেগ ১৪৮ কিলোমিটার/ঘণ্টা পর্যন্ত বেড়েছে।
ঘূর্ণিঝড় সামনে রেখে ফ্লোরিডিবাসীকে সবচেয়ে বড় উচ্ছেদ প্রচেষ্টার জন্য প্রস্তুত হতে বলা হয়েছে। রাজ্যের গভর্নর রন ডিস্যান্টিস সতর্ক করে বলেছেন, সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেয়ার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমাদের ধরে নিতে হবে এটি একটি দানব আকারে আঘাত হানতে চলেছে।
মাত্র ১০ দিন আগেই ভয়াবহ হারিকেন হেলেন দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে তাণ্ডব চালিয়েছে। ২০০৫ সালে আঘাত হানা হারিকেন ক্যাটরিনার পর থেকে মার্কিন মূল ভূখণ্ডের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঝড় এটি। এতে অন্তত ২২৫ জন মানুষ নিহত হন। শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। শুধু ফ্লোরিডায় অন্তত ১৪ জন মারা গেছেন।
ওই হারিকেনের তাণ্ডবে প্রাণহানির পাশাপাশি বিগ বেন্ড ও আশপাশের এলাকার অসংখ্য গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে। একইসঙ্গে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শত শত রাস্তা ডুবে যায়।

নরসিংদীর মরজালে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মীদের ছুরিকাঘাতে আহত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য জুনায়েদ আল হাবিব (২২) মারা গেছেন। ছুরিকাঘাতের ৯ দিন পর সোমবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।
এদিকে জুনায়েদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে আসে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মরজাল বাসষ্ট্যান্ডে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ওই সময় তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিতরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী বাদলের দোকানে হামলা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। খবর পয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত জুনায়েদ নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের বটিয়ারা এলাকার মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে ও স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার বটিয়ারা মোড়ে জুনায়েদকে ছুরিকাঘাত করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা স্বাধীন ও পিয়ালের নেতৃত্বে কয়েকজন। ছুরিকাঘাতে আহত জুনায়েদকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। টানা ৯ দিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। সোমবার দুপুরে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় আইসিইউতে ভর্তির পরামর্শ দেন চিকিৎসক। হাসপাতালে আইসিইউ খালি না থাকায় তাকে রাজধানীর গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে ভর্তির প্রস্তুতিকালে সোমবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ৩০ সেপ্টেম্বর জুনায়েদের চাচা মো. শফিক বাদী হয়ে স্বাধীন ও পিয়ালসহ ১৪ জনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে।
পরিবারের দাবি, ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়ায় স্থানীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মীরা জুনায়েদকে ছুরিকাঘাত করে। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল জব্বার জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে মাদক ব্যাবসার নিয়ন্ত্রণ নেয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রতিপক্ষরা জুনায়েদ আল হাবিবকে ছুড়িকাঘাত করে। পরে চিকিৎসাধিন তার মৃত্যু হয়। এ খবরে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

সোমবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানী জুরাইন জেলগেট বিক্রমপুর প্লাজা চত্বরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে এ কর্মসূচি উদ্বোধন হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ ইমতিয়াজ আলম।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
এছাড়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, ঢাকা মহানগর উত্তরের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রিন্সিপাল অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে যে সব ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল আছে তার মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশের মানুষেরা ইসলামপন্থী এই দলের প্রতি আস্থা রেখেছে। দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা উপজেলা থেকে শুরু করে প্রান্তিক অঞ্চলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে।
তারা বলেন, ভবিষ্যতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশের জন্য ইসলামিক দল হিসেবে একটি রোল মডেল পরিগণিত হয় সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। একনিষ্ঠ মনোবল, সততা এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ইসলামের সৌন্দর্যের ছায়াতলে সব শ্রেণির পেশাজীবিদের আনতে নিরলসভাবে পরিশ্রম করতে হবে।

শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি একদিন বাড়ছে। আগামী ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও ছুটি পাওয়া যাবে। এতে টানা চারদিন সরকারি ছুটি পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
আজ ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করে বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম। আজ ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
মাহফুজ আলম বলেন, অনেকদিন ধরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দাবি ছিল দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ানোর। ওনারা ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত আনন্দ উদযাপন করেন। এবার দুর্গাপূজার দশমীর আগে শুক্র-শনিবার পড়েছে। তাই আমরা চিন্তা করেছি এবার একদিন ছুটি বাড়িয়ে দেবো যেন ওনারা একটা বড় সময় পান পূজা উদযাপনের জন্য।
সরকার বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করে আজকের মধ্যে হয়তো একটি প্রজ্ঞাপন জারি করবে। এর মধ্যদিয়ে পূজার ছুটি একদিন বাড়ানো হবে।
বিজয়া দশমীর সরকারি ছুটি থাকবে আগামী ১৩ অক্টোবর, রোববার। তার আগে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। বৃহস্পতিবার ছুটি পেলে টানা চারদিন সরকারি ছুটি পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

খুলনা নগরীর ময়ূর নদের পাশ থেকে এক ব্যক্তির খণ্ডিত পা উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৬ অক্টোবর) দুপুরে নদের পাশে ময়লার স্তূপ থেকে সেটি উদ্ধার করা হয়। পরে সেটি ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ টেস্টের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার এস আই দীপক কুমার পাল জানান, সকালে এলাকাবাসীর তথ্যের ভিত্তিতে খণ্ডিত পা উদ্ধার করা হয়েছে। পায়ের পাতার কিছু অংশ পচন ধরা ছিল। কাউকে হত্যার পরিকল্পনা থেকে পা কাটা হয়েছে নাকি পচন ধরায় পা কেটে ফেলা হয়েছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। আপাতত খণ্ডিত পায়ের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে যুবদল নেতা মৃত্যুর প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার বিভাগে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে হরতালের ডাক দেয় সিলেট যুবদল।
যুবদলের হরতালে একাত্মতা জানিয়েছে সিলেট বিএনপি। মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে বিএনপি নেতারা একাত্মতা পোষণের কথা জানান।
এদিকে বুধবার জিলু হত্যার প্রতিবাদে জিন্দাবাজার এলাকায় মিছিল করেন যুবদল নেতাকর্মীরা। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে পুলিশ এলে মিছিলকারীরা চৌহাট্রা দিয়ে চলে যান। অনেকেই দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
জানা গেছে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার এলাকায় পিকেটিং করতে গিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গুরুতর আহত হন গোলাপগঞ্জ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দিলু আহমদ জিলু। তিনি কর্মসূচিতে অংশ নিতে গোপালগঞ্জ থেকে সিলেট আসেন।
যুবদলের অভিযোগ, ধাওয়া করে পুলিশের গাড়ি ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে জিলু আহত হন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়, হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
তবে যুবদলের অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ বলছে, পিকেটিংকালে পুলিশের গাড়ি দেখে পালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে জিলুকে বহনকারী মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে আহত হন জিলু। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে তিনি মারা যান।
এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সিলেট বিভাগে হরতারেল ডাক দিয়েছে যুবদল। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হরতাল পালনের আহ্বান জানিয়েছেন যুবদল নেতারা।
নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মির্জা সম্রাট জানিয়েছেন, জিলু হত্যার প্রতিবাদে তারা হরতাল আহ্বান করেছেন। শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালনের জন্য সিলেটবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে সিলেটে যুবদলের হরতালে একাত্মতা প্রকাশ করেছে সিলেট বিএনপি। জিলু আহমদ দিলুর মৃত্যুর প্রতিবাদে বুধবার সিলেট বিভাগে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচিতে একাত্মতা পোষণ করেছে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী হরতালের প্রতি পূর্ণ সমর্থন করে সর্বাত্মকভাবে হরতাল পালন করার আহ্বান জানান।

পদ্মা সেতু হয়ে দেশের দক্ষিণের পথে রেল যোগাযোগের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় এক সুধী সমাবেশে নতুন রুটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে।
পদ্মা সেতু হয়ে রেলপথের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নতুন এক রেলযুগে প্রবেশ করল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। যার ফলে পণ্য আনা-নেওয়া সহজ হওয়ায় প্রসার হবে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প কারখানার। যা অবদান রাখবে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে সড়ক পথে গণভবন থেকে মাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। সকাল পৌনে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী মাওয়া পৌঁছান।
জানা গেছে, উদ্বোধনের পর মাওয়া স্টেশন থেকে একটি বিশেষ ট্রেনে ফরিদপুরের ভাঙ্গা স্টেশনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রীপরিষদ সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের যাত্রী হওয়ার কথা রয়েছে। চীন থেকে আমদানি করা ১৪টি কোচ দিয়ে ট্রেনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা রুটে বিশেষ ট্রেনের ট্রায়াল সম্পন্ন হয়। এর আগে পদ্মা সেতুতে পাথরহীন রেললাইনের কাজ শেষ হওয়ার পর গত ৪ এপ্রিল ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত পর্যন্ত ট্রায়াল ট্রেন চালায় বাংলাদেশ রেলওয়ে।
গত বছরের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্প’র আওতায় ঢাকা ও যশোরের মধ্যে রেল সংযোগ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯,২৪৬.৮০ কোটি টাকা। এতে চীনের এক্সিম ব্যাংক ২১,০৩৬.৭০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে।
প্রকল্পটি সমাপ্ত হওয়ার পর রেল যোগাযোগ পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দেশের মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে রাজধানী শহরের প্রবেশ পথ আরও বর্ধিত হবে- যা মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর এবং নড়াইল জেলার নতুন এলাকাকে যুক্ত করবে।
প্রকল্পটি ঢাকা-যশোর-খুলনাকে ২১২.০৫ কিলোমিটার সংক্ষিপ্ত রুট দিয়ে বিকল্প রেলপথ সংযোগ স্থাপন করবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে ঢাকা-যশোর পর্যন্ত পদ্মা সেতু রেল লিংক রুটটি। এ রুট দিয়ে বাংলাদেশের রেলপথ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে।

বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘাটিয়ে পদ্মা নদীর বুক চিড়ে ট্রেনের প্রথম যাত্রা শেষ হলো ৫৪ মিনিটে। পদ্মায় সড়ক সেতু উদ্বোধনের সোয়া এক বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রেল পথ উদ্বোধনকে ঘিরে পদ্মার দুই পাড়ের মানুষের ছিল উন্মুখ অপেক্ষা।
মঙ্গলবার সড়ক পথে মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় গিয়ে রেল চলাচল উদ্বোধন করেন সরকার প্রধান। এরপর বেলা ১২টা ৫৯ মিনিটে তাকে বহনকারী ট্রেনটি ফরিদপুরের ভাঙ্গার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। ১৪ কোচের বিশেষ এই ট্রেনের দুই পাশেই ছিল দুটি ইঞ্জিন। ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সেটি বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে সেই ট্রেন পৌঁছে ভাঙ্গা স্টেশনে। এই যাত্রায় পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে সময় লাগে আট মিনিটের মতো। বেলা ১টা ৭ মিনিটে ট্রেনটি সেতুতে উঠে। সেতু পাড়ি দিয়ে ট্রেনটির ইঞ্জিনের দেখা মেলে ১টা ১৫ মিনিটে। ভাঙ্গায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
শেখ হাসিনা এই পথে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করলেও ঢাকা থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে। ঢাকা থেকে খুলনা পর্যন্ত চলাচলকারী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, ঢাকা থেকে যশোরের বেনাপোল পর্যন্ত চলাচলকারী বেনাপোল এক্সপ্রেসের রুট পাল্টে চলবে পদ্মা সেতু হয়ে। পাশাপাশি রাজশাহী থেকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পর্যন্ত চলাচলকারী মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটির যাত্রাপথ বাড়বে। সেদিন থেকে এই ট্রেনটি চলবে রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত।
এই রুট চালুর পর মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও নড়াইল জেলা রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এছাড়া ভাঙ্গা-পাচুরিয়া- রাজবাড়ী সেকশনও পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকার সাথে সরাসরি সংযুক্ত হবে। রেল লাইন উদ্বোধনের এই দিনটিতে প্রধানমন্ত্রী মাওয়া প্রান্তে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছাড়াও ভাঙ্গায় সমাবেশের আয়োজন রাখা হয় আগেই। সেখানে ডা. কাজী আবু ইউসুফ স্টেডিয়ামে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সেই সমাবেশে সকাল ১০টা থেকেই প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে দলে দলে আসতে থাকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। মিছিল-স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে জনসভাস্থল।
দীর্ঘ ৬ বছর পর ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আসেন প্রধানমন্ত্রী। তাকে স্বাগত জানাতে মহাসড়ক বা অলিগলি সবখানে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে তাকে স্বাগত জানিয়ে তুলে ধরা হয় সরকারের উন্নয়ন কাজের ফিরিস্তি এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বদলে যাওয়ার চিত্র।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘দেশে একটি সংবিধান রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী যা হবে তাই আমরা করব। দেশে একটা নির্বাচন কমিশন আছে, সেই কমিশন তপসিল ঘোষণা করবে। তখন সশস্ত্র বাহিনী গুলো নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে যাবে। নির্বাচন কমিশন তাদের যেভাবে পরিচালিত করবে তারা সেভাবেই পরিচালিত হবে। দেশে একটা সুষ্ঠুতা নির্বাচন হবে এটাই আমরা আশা করি। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলেন, আপনারা কি ইয়াজউদ্দিনের কথা ভুলে গেছেন?’
রোববার বিকেলে নোয়াখালীর চাটখিল থানা পুলিশের নবনির্মিত ব্যারাক ও কনফারেন্স রুম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনগণ আর অন্ধকারে ফিরে যেতে চায় না। এ দেশের মানুষ আলোকিত বাংলাদেশ দেখতে চায়। জনগণ সন্ত্রাস- জঙ্গিবাদকে প্রত্যাখ্যান করেছে। যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও দেশকে অচল করার চেষ্টা চালিয়েছে জনগণ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আমরা মনে করি জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। জনগণ যাদের সঙ্গে নেই তারা যতই আন্দোলন করুক তাতে কিছুই হবে না। কারণ জনগণই আসল শক্তি।’
দেড় কোটি ভুয়া ভোটারের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘ভুয়া ভোটারদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলন করেছিলেন। স্বচ্ছ ব্যালট পেপারই হচ্ছে সেই আন্দোলনের ফসল। এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়ে আসছে। কে আসল আর কে গেল তাতে কিছু আসে-যায় না। নির্বচন নির্বাচনের গতিতেই হবে। আমরা মনে করি এই কমিশন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেবে।’
এ সময় পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুর এ আলম মিনা, সংসদ সদস্য এইচএম ইব্রাহিম, নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয়া সেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজিমুল হাসান রাজীব ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম উপস্থিত ছিলেন।
পরে মন্ত্রী সোনাইমুড়ি সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার দুটি এবং সালথা উপজেলার একটি গ্রাম এক মিনিটের টর্নেডোতে লণ্ডভণ্ড হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে এ টর্নেডোতে প্রায় শতাধিক ঘরাবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, উপড়ে গেছে কয়েক হাজার গাছপালা। বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় শুক্রবার থেকে বন্ধ রয়েছে এ তিনটি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ। টর্নেডোতে বাড়িঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় কয়েকশ পরিবারের সদস্য এখন বেশ কষ্টে দিনযাপন করছে। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান প্রশাসনের কর্তারা।
স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের সোনতুন্দী গ্রামে আঘাত হানে টর্নেডো। এক মিনিটের এ টর্নেডোতে বিধ্বস্ত হয় ২১টি বসতঘর।
বল্লভদি ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান শাহিন বলেন, ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে সোনাতন্দী গ্রামের ২১টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। তাদের থাকা ও খাবার-দাবারের কোনো ব্যবস্থা নাই। আমি আপাতত কিছু শুকনো খাবার দিয়েছি।
এদিকে, আলফাডাঙ্গা উপজেলায় কয়েক মিনিটের স্থায়ী ঘূর্ণিঝড়ে দুটি ইউনিয়নের অন্তত ৬টি গ্রামের শতাধিক কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও টগরবন্ধ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ঝড়ে উপড়ে পড়েছে কমপক্ষে তিনশতাধিক গাছপালা। এ ছাড়া বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ।
সদর ইউনিয়নের বিদ্যাধর গ্রামের ইউপি সদস্য মা. শরিফুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই সারাদিন ধরে প্রচণ্ড বৃষ্টি ছিল। বিকেলের দিকে হঠাৎ করে ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ২০ থেকে ৩০টি কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি গাছপালা ভেঙে উপড়ে ফেলে। এর আগে থেকেই বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান জাহিদ বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে দুই উপজেলার ছয়টি গ্রামের প্রায় শতাধিক কাঁচাপাকা বাড়িঘর ভেঙে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এ ছাড়া কমপক্ষে তিনশতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়েছে। অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে রয়েছে।

বিএনপির চট্টগ্রামমুখী রোডমার্চে যাওয়ার পথে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট এলাকায় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার বড় রাজাপুর এলাকায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বাড়ির কাছে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় কবিরহাট উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কমপক্ষে ১৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৫টি বাস, ১টি পিকআপ ভ্যান ও ১৫টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বর্তমান জেলা বিএনপির সদস্য নাজমুল হুদা বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাড়িবহর বড় রাজাপুর এলাকায় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বাড়ি অতিক্রম করার পর আওয়ামী লীগের কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালান।
হামলায় গুরুতর আহত উপজেলা যুবদলের নেতা মো. শুভকে (২৫) কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহত ব্যক্তিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে কথা হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের সঙ্গে। তিনি বলেন, চার দিন ধরে স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে ঢাকায় অবস্থান করছেন তিনি। বসুরহাটে বিএনপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনা তাঁর জানা নেই।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রণব চৌধুরী বলেন, বিএনপির গাড়িবহরে কারা নাকি ঢিল মেরেছিল। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু কারা ঢিল ছুড়েছিল, তা শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ সড়কের ওপর গাড়ির ভাঙা কাচ পড়ে থাকতে দেখে। এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।